মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

মেয়রের বার্তা

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

 

সম্মানিত পৌরবাসী, কাউন্সিলরবৃন্দ, সাংবাদিকবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী সংস্থা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সমূহের সম্মানিত প্রতিনিধিবৃন্দ এবং অত্র পৌরসভার কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ উপস্থিত সুধীজন, আপনাদের সবাইকে সালাম ও শুভেচ্ছা জানিয়ে যশোর পৌরসভার ২০১০-২০১১অর্থ বছরের সংশোধিত বাজেট এবং ২০১১-২০১২অর্থ বছরের প্রস্তাবিতবাজেট উপস্থাপন করছি ।

 

সমবেত সুধী,

বাজেট হলো একটি রাষ্ট্রের বা একটি প্রতিষ্ঠানের বাৎসরিক কর্মভিত্তিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনা । বিগত বৎসরের বাজেট পর্যালোচনার মাধ্যমে  পৌরবাসীর প্রয়োজন ও চাহিদার নিরেখে আগামী এক বৎসর কোন খাতে কত টাকা আয়-ব্যয় হবে এবং আয়-ব্যয়ের অর্থ কোথাহতে পাওয়া যাবে তার অগ্রিম আর্থিক পরিকল্পনা । বাজেট সমাজ জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আর উন্নয়নের গতিধারাকে ত্বরান্বিত করতে প্রয়োজন একটি সুশৃংখল বাজেটের। তাইসম্মানিত পৌরবাসী বাজেট বিশ্লেষণ করে এই পৌরসভার আগামী কর্মকান্ডকে মূল্যায়ন করবেন বলে আমি আশাবাদ ব্যক্ত করছি।

 

সম্মানিত পৌরবাসী,

২০১১ সালের ১২ ফেব্রুয়ারী আমি আপনাদের অকুন্ঠ সর্মর্থন ও ভোটে নির্বাচিত হয়ে পৌর মেয়র হিসেবে ঊনবিংশ শতাব্দীর অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এই যশোর পৌরসভার দায়িত্বভার গ্রহণ করি । আপনাদের সবার মতো আমারও অকৃত্রিম আকাঙ্খা নিজ শহরযশোর পৌরসভাকে সুন্দর করে সাজাতে। এই আশাবাদ নিয়ে ২০১১ সাল থেকে ২০১৬সাল এই ৫ (পাঁচ) বছরে পরিচালিত কার্যক্রমে আপনাদের সবার তুমুলসহযোগীতা আশাকরি,একইসাথে যে দায়িত্ব আমার ও পৌর পরিষদের উপর অর্পিত হয়েছে মহান আল্লাহ্ তালাহ্ যেন আমাকে ও পৌর পরিষদকে সে দায়িত্ব পালনে শক্তি দেন ।

 

উপস্থিত সুধীবৃন্দ,

উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান আমাদের এই যশোর পৌরসভা যার সুচনা কাল ১৮৬৪ সাল। প্রতিষ্ঠানটি পুরাতন হলেও দীর্ঘদিন ধরে এ পৌরসভার রাস্তাঘাট, পয়ঃপ্রনালী, নর্দমা, সড়ক বাতি ইত্যাদির অপ্রতুলতার কথা আপনারা অবগত আছেন। বহু বছর থেকে সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাবে যথাযথ ভাবে উন্নয়ন পৌর এলাকায় সংঘটিত হয়নি। আমি ও পৌর পরিষদ দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকে আন্তরিক ভাবে নিরলস শ্রম দিয়ে চলেছি যাতে পৌরবাসীকে সর্ব প্রকার নাগরিক সুবিধা প্রদান করতে পারি।  আপনাদের সকলের সাহায্য, সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা পেলে ব্যক্তিগতভাবে আমি এবং পৌর পরিষদ সর্ব প্রকার উন্নয়ন প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে সংকল্প বদ্ধ।

 

প্রিয় পৌরবাসী,

 আপনাদের সদয় অবগতির জন্য যানাচ্ছি যে, আমি যশোর পৌরসভার দায়িত্ব ভার গ্রহণ করেছি এক বিশাল ঋণের বোঝাকাঁধে নিয়ে, যে ঋণের পরিমান হল ১৬ কোটি ৯৬ লক্ষ ৫৬ হাজার ২ শত ৭৬ টাকা, যা ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১১ তারিখে,পৌর নাগরিক সমাজের সামনে হাজির করেছিলাম। প্রিয় সুধী, আমি আমার আত্মার কাছে ওয়াদা বদ্ধ যে, ৫ বছরের মধ্যে এই ঋণের বোঝা আমি মাথাথেকে নামিয়ে ফেলবো ইনশাল্লাহ। ইতি মধ্যে আমি প্রায় ৬৫ লক্ষ্য টাকা বকেয়া পরিশোধ করেছি যার বেশিরভাগ টাকা পৌরসভার  অবসর প্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারিদের পাওনাছিল  এবং সাথে সাথে এ ওয়াদাও করছি যে, আপনাদের সহযোগিতা পেলে আমার মেয়াদ শেষে পৌরসভায় উদ্বৃত্ব রাজস্ব রেখে যেতে সক্ষম হবইনশাল্লাহ।

 

 

 

 

 

সমবেত সুধী,

বর্তমানে পৌরসভার আর্থিক অস্বচ্ছলতা কাটিয়ে পৌরবাসীকে ন্যূনতম নাগরিক সুবিধা প্রদানের জন্যে কিছু আয়বর্ধক ও উন্নয়নমূলক প্রকল্প এ বাজেটের অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে- 

 

উন্নয়ন মূলক কাজের ভিতরে রয়েছেযথা:- (১) এম. এম আলী রোড সংস্কার (২) ষ্টেডিয়াম পাড়ায় অবস্থিত রাজ্জাক কলেজের পিছনের রাস্তা ও ড্রেন নির্মান (৩) এম পি স্কুলের মাঠ (গ্যালারী) উন্নয়ন (৪) ডিসি বাংলো রোডের ড্রেন নির্মান (৫) কমিউনিটি সেন্টারের রান্নাঘর নির্মান (৬) মিশন পাড়ায় ড্রেন নির্মান (৭) শহরের বিভিন্ন ড্রেন ব্যাপক ভাবে পরিস্কার (৮) গুরুত্ব পূর্ণ রাস্তাগুলি মেরামত (৯) বিভিন্ন স্থানে ডাষ্টবিন ও স্লাব নির্মান  (১০) উৎপাদন নলকুপ ও পানির পাইপ লাইন স্থাপনের মাধমে পানির চাহিদা পূরণ করা (১১) মশা নিধনের জন্য উপকরণ ক্রয় (১২) ময়লা আবর্জনা পরিস্কারের জন্য ২০ টি ভ্যান ও ৪০ টি হ্যান্ড ট্রলি নির্মান (১৩) বিদ্যুতের কাজে ব্যবহারের জন্য ৩টি ভ্যান নির্মান (১৪) পৌর এলাকায় বিভিন্ন স্থানে ১৩ টি কমিউনিটি ল্যাট্রিন তৈরী (১৫) বস্তি এলাকায় গভীর নলকুপ ৫২ টি, ল্যাট্রিন ৫৪ টি ও বিভিন্ন এলাকায় ফুটপথ তৈরী (১৬) পৌর এলাকায় আলোকিত করণের লক্ষে ষ্ট্রিট ফেজ সম্প্র্রসারণ সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এনার্জি সেভিং সোডিয়াম ভাল্ব স্থাপণ। এছাড়াও শহরে সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য শহরের প্রবেশমুখে ‘প্রেবেশ দার’নির্মান, ‘উন্মুক্ত নাট্যমঞ্চ’ ও ‘উন্মুক্ত আবৃতিমঞ্চ’ নির্মানের আকাঙ্খা রয়েছে -  

 

আয় মূলক খাতের (স্থানীয় পর্যায়ে)ভিতরে রয়েছেযথা :- (১) ট্রেড লাইসেন্স (২) হোল্ডিং ট্যাক্স (৩) পানি সরবরাহ (৪) রিক্সা লাইসেন্স (৫) টার্মিনাল ফিস (৬) পৌর দোকান ভাড়া (৭) বাজার ইজারা (৮) নতুন নতুন বাজার লিজ (৯) আর এন রোডের নতুন বাজার (১০) পৌর পুকুর (৫টি) লিজ  এবং (১১) পৌর এলাকায় নির্মানাধীন নতুন বাড়ীর প্লান পাস। দীর্ঘকাল নানা অনিয়মের কারণে এই সকল খাত থেকে পৌরসভা যথাযথ আয় থেকে বঞ্চিত ছিল। বর্তমানে আমাদের পদক্ষপের মধ্য দিয়ে এই সকল খাত থেকে আয় বৃদ্ধি পাবে।

 

প্রিয় সুধী

আপনাদের অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতাকে পাথেয় করে যশোর পৌরসভার সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে আমি আজ ৩০ জুন ২০১১, বাংলা ১৬ আষাঢ় ১৪১৮ বৃহস্পতিবার আপনাদের উপস্থিতিতে অত্যন্ত আনন্দের সাথে ২০১০-২০১১ অর্থ বছরের সংশোধিত বাজেট টাকা =২৬,৫২,৫৪,৮১৭.৩৬ (ছাবিবশ কোটি বায়ন্ন লক্ষ্য চুয়ান্ন হাজার আটশত সতের টাকা ছত্রিশ পয়সা)এবং২০১১-২০১২ ইং অর্থ বছরেরপ্রস্তাবিত বাজেটমোট টাকা =৭২ কোটি ২৭ লক্ষ্য (এর মধ্যে আয় ৫৫ কোটি ৫২ লক্ষ্য, ব্যয় ৭২ কোটি ২৭ লক্ষ্য , ঘাটতি ১৬ কোটি ৭৫ লক্ষ্য) ঘোষণা করলাম।

 

এই বাজেট প্রস্ত্ততে সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য অর্থ উপ-কমিটির সকল সদস্যকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি এবং আমার আমন্ত্রণে পৌর পরিষদ কর্তৃক আহুত এ বাজেট অধিবেশনে আপনাদের উপস্থিতির জন্যে সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি । পৌরবাসীর জীবনযাত্রা সুন্দর, সহজ, সাবলীল হোক এবং প্রিয় পৌরবাসী সকলের মঙ্গল কামনা করে শেষ করছি।  আল্লাহ্ হাফেজ।

 

 

 

 

যশোর পৌরসভা কার্যালয়, যশোর                                                 (মো মারুফুল ইসলাম)

৩০  জুন ২০১১                                                                      মেয়র                                                                                 

১৬ আষাঢ় ১৪১৮ বাংলা                                                            যশোর পৌরসভা


Share with :

Facebook Twitter